উৎপাদন মাত্রা (Scale of Production)
উৎপাদন মাত্রার প্রকারভেদ
বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ ও পাঠ্যপুস্তক অনুসারে উৎপাদন মাত্রাকে সাধারণত চারটি ভাগে বিভক্ত করা হয়—
১। অতিক্ষুদ্র উৎপাদন মাত্রা (Very Small Scale Production)
২। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উৎপাদন মাত্রা (Small and Medium Scale Production)
৩। বৃহদায়তন উৎপাদন মাত্রা (Large Scale Production)
৪। কাম্য উৎপাদন মাত্রা (Optimum Scale of Production)
নিচে প্রতিটি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো
১। অতিক্ষুদ্র উৎপাদন মাত্রা (Very Small Scale Production)
বৈশিষ্ট্য:
- সাধারণত ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হয়।
- পুঁজির পরিমাণ খুব কম।
- যন্ত্রপাতি প্রায় থাকে না বা হাতে পরিচালিত হয়।
- উৎপাদন মূলত স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটানোর জন্য।
- শ্রমিক সংখ্যা অল্প।
২। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উৎপাদন মাত্রা (Small and Medium Scale Production)
বৈশিষ্ট্য:
- পুঁজি ও শ্রমের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে বেশি।
- উৎপাদন বাজারে প্রতিযোগিতামূলকভাবে বিক্রি হয়।
- যন্ত্রপাতি আংশিকভাবে ব্যবহৃত হয়।
- ব্যবস্থাপনা সাধারণত মালিক নিজেই করে থাকেন।
- শিল্পের বিস্তার সীমিত অঞ্চলে সীমাবদ্ধ।
৩। বৃহদায়তন উৎপাদন মাত্রা (Large Scale Production)
বৈশিষ্ট্য:
- মূলধন ও প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার।
- দক্ষ শ্রমিক ও বিশেষজ্ঞ ব্যবস্থাপনা টিম থাকে।
- যন্ত্রনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন পদ্ধতি।
- উৎপাদনের পরিমাণ বিপুল, ফলে একক ব্যয় কমে যায় (Economies of Scale)।
- বাজার বিস্তৃত ও প্রতিযোগিতামূলক।
৪। কাম্য উৎপাদন মাত্রা (Optimum Scale of Production)
বৈশিষ্ট্য:
- উৎপাদন উপকরণের সর্বোত্তম ব্যবহার ঘটে।
- অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাস পায়।
- শ্রম ও যন্ত্রপাতির মধ্যে ভারসাম্য থাকে।
- উৎপাদন পরিমাণ এমন যে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকে।
- প্রতিষ্ঠান স্থিতিশীলভাবে পরিচালিত হয়।
উৎপাদন মাত্রা নির্ধারণ একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের অন্যতম প্রধান উপাদান। অতিক্ষুদ্র থেকে শুরু করে বৃহদায়তন উৎপাদনের প্রতিটি স্তর অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, দীর্ঘমেয়াদে কোনো প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে চাইলে তাকে কাম্য উৎপাদন মাত্রা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে— যেখানে সর্বোচ্চ দক্ষতার মাধ্যমে সর্বনিম্ন ব্যয়ে সর্বাধিক উৎপাদন সম্ভব।
Post a Comment