ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ধারণা ও বৈশিষ্ট্য
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (Small and Medium Enterprises - SME) বলতে সেইসব শিল্পকে বোঝায় যেগুলোতে মূলধন, শ্রম ও প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত হলেও তা উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সংজ্ঞা:
বাংলাদেশ সরকারের শিল্পনীতি ২০১৬ অনুসারে —
ক. উৎপাদন শিল্পে (Manufacturing):
| শ্রেণি | বিনিয়োগ (টাকা) | শ্রমিক সংখ্যা |
|---|---|---|
| ক্ষুদ্র শিল্প | ৭৫ লক্ষ টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকার কম | ২৫–৯৯ জন |
| মাঝারি শিল্প | ১৫ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকার কম | ১০০–২৫০ জন |
খ. সেবাখাতে (Service Sector):
| শ্রেণি | বিনিয়োগ (টাকা) | শ্রমিক সংখ্যা |
|---|---|---|
| ক্ষুদ্র শিল্প | ১০ লক্ষ থেকে ৫ কোটি টাকার কম | ১০–২৫ জন |
| মাঝারি শিল্প | ৫ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকার কম | ২৫–১০০ জন |
(উৎস: শিল্পনীতি, বাংলাদেশ সরকার, ২০১৬)
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বৈশিষ্ট্যসমূহ (Characteristics of SME)
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ
১। পুঁজির পরিমাণ সীমিত
এসব শিল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। সাধারণত উদ্যোক্তা নিজস্ব মূলধন ও সীমিত ঋণের মাধ্যমে শিল্প পরিচালনা করেন।
২। শ্রমনির্ভরতা বেশি
এসব শিল্পে যন্ত্রপাতির তুলনায় মানবশক্তির ওপর নির্ভরতা বেশি থাকে। ফলে এগুলো শ্রমঘন (Labour Intensive) প্রকৃতির।
৩। স্থানীয় কাঁচামালের ব্যবহার
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সাধারণত স্থানীয়ভাবে পাওয়া কাঁচামাল ব্যবহার করে, যা উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়ক হয়।
৪। প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার
এসব শিল্পে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আধা-যান্ত্রিক বা হাতে পরিচালিত যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
৫। উৎপাদনের পরিসর সীমিত
এগুলো ছোট আকারের বাজারের চাহিদা মেটাতে উৎপাদন করে। উৎপাদনের পরিমাণ সীমিত হওয়ায় বড় পরিসরে বিপণন কম হয়।
৬। স্থানীয় বাজারে বিক্রয়
এসব শিল্পের পণ্য সাধারণত স্থানীয় বা আঞ্চলিক বাজারে বিক্রি করা হয়। রপ্তানির সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম।
৭। ব্যবস্থাপনা পারিবারিক বা স্বতন্ত্র
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সাধারণত মালিক নিজে বা পারিবারিকভাবে পরিচালনা করেন। ব্যবস্থাপনায় আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে অভিজ্ঞতা ও পরিচিতির ভূমিকা বেশি থাকে।
৮। কর্মসংস্থান সৃষ্টি
এসব শিল্প স্বল্প মূলধনে অধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। ফলে গ্রামীণ ও শহরতলির বেকারত্ব হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৯। পণ্যের বৈচিত্র্য
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা প্রায়ই স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন পণ্যের উদ্ভাবন ও বৈচিত্র্য সৃষ্টি করেন।
১০। অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা
এসব শিল্প দেশের শিল্পভিত্তি বিস্তারে, দারিদ্র্য বিমোচনে এবং আয় বণ্টনের ন্যায্যতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১১। ঝুঁকি তুলনামূলক কম
বৃহৎ শিল্পের তুলনায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ কম থাকায় ব্যবসায়িক ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
১২। দ্রুত স্থাপন ও নমনীয়তা
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপন করতে সময় ও জটিলতা কম লাগে। বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
Post a Comment