বৃহদায়তন শিল্পের ধারণা
যে সকল শিল্পে বিপুল মূলধন, আধুনিক যন্ত্রপাতি, উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ শ্রমিক ও বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হয়, তাকে বৃহদায়তন শিল্প বলা হয়।
এই শিল্পগুলো সাধারণত জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রম পরিচালনা করে।
উদাহরণ:
সিমেন্ট শিল্প, ইস্পাত শিল্প, গাড়ি নির্মাণ শিল্প, বস্ত্র শিল্প, সার শিল্প, জাহাজ নির্মাণ শিল্প ইত্যাদি।
বৃহদায়তন শিল্পের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Large-scale Industry):
১. বৃহৎ মূলধন বিনিয়োগ:
এই শিল্পে যন্ত্রপাতি ও উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য বিপুল পরিমাণ মূলধন প্রয়োজন হয়।
২. যন্ত্রনির্ভর উৎপাদন:
উৎপাদন প্রক্রিয়ায় আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার করা হয়।
৩. দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন:
এই শিল্পে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ শ্রমিক নিয়োগ করা হয়।
৪. বৃহৎ উৎপাদন পরিসর:
এখানে বৃহৎ পরিমাণে পণ্য উৎপাদিত হয়, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়।
৫. কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থাপনা:
শিল্প পরিচালনার জন্য একটি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ বা ব্যবস্থাপনা কাঠামো থাকে।
৬. বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা:
উৎপাদন ও বিপণনে বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা ও সংগঠন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
৭. বিপণন ব্যবস্থার বিস্তার:
দেশব্যাপী ও বিদেশেও পণ্য বিপণনের জন্য উন্নত বিপণন নেটওয়ার্ক থাকে।
৮. উচ্চ উৎপাদন ব্যয়:
প্রাথমিকভাবে স্থাপনে ব্যয় বেশি হলেও পরবর্তীতে একক পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমে আসে।
৯. গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম:
নতুন পণ্য উদ্ভাবন ও মানোন্নয়নের জন্য গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ থাকে।
১০. আইনি কাঠামো ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ:
বৃহদায়তন শিল্পে সাধারণত সরকারি অনুমোদন, নিবন্ধন ও তদারকির প্রয়োজন হয়।
বৃহদায়তন শিল্পের গুরুত্ব (Importance of Large-scale Industry):
১. জাতীয় আয়ে অবদান:
এই শিল্প জাতীয় আয় ও GDP বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২. রপ্তানি বৃদ্ধি:
বৃহদায়তন শিল্পজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টি:
বিপুলসংখ্যক শ্রমিক, প্রকৌশলী ও প্রশাসনিক কর্মচারীর কর্মসংস্থান হয়।
৪. প্রযুক্তিগত উন্নয়ন:
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দেশের শিল্প ও বিজ্ঞান অগ্রগতিতে সহায়তা করে।
৫. অবকাঠামো উন্নয়ন:
এই শিল্পের কারণে যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি হয়।
৬. আমদানি নির্ভরতা হ্রাস:
দেশে প্রয়োজনীয় ভারী পণ্য উৎপাদন হওয়ায় বিদেশি আমদানির প্রয়োজন কমে যায়।
৭. আঞ্চলিক উন্নয়ন:
বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়ন ঘটে।
৮. জাতীয় শক্তি বৃদ্ধি:
ভারী শিল্প দেশের আত্মনির্ভরতা ও অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করে।
৯. সহায়ক শিল্পের বিকাশ:
বৃহদায়তন শিল্পের চারপাশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ ঘটে।
১০. জীবনমানের উন্নয়ন:
বিভিন্ন ভোগ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নত হয়।“
Post a Comment