সংগঠনের ধারণা: মানব সমাজে মানুষ একা সব কাজ সম্পন্ন করতে পারে না। প্রয়োজন হয় পারস্পরিক সহযোগিতা, পরিকল্পনা ও দায়িত্ব বণ্টনের। যখন একাধিক ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পিতভাবে কাজ করে, তখনই সেখানে একটি সংগঠনের জন্ম হয়।
অর্থাৎ, সংগঠন এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে মানুষের কাজ, দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত থাকে এবং সবার প্রচেষ্টা এক অভিন্ন লক্ষ্যে পরিচালিত হয়।
সংগঠনের সংজ্ঞা: বিভিন্ন পণ্ডিত ও অর্থনীতিবিদ সংগঠনের নানা সংজ্ঞা দিয়েছেন। নিচে কিছু উল্লেখযোগ্য সংজ্ঞা দেওয়া হলো —
-
মুনডি (Mooney) ও রেইলি (Reiley) এর মতে –
“সংগঠন হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে মানুষের কাজ ও দায়িত্বগুলো এমনভাবে সাজানো হয় যাতে যৌথ প্রচেষ্টায় নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা যায়।”
-
চেস্টার আই. বার্নার্ড (Chester I. Barnard) বলেছেন –
“সংগঠন হলো দুই বা ততোধিক ব্যক্তির সচেতনভাবে সমন্বিত কর্মকাণ্ডের একটি ব্যবস্থা।”
-
হেনরি ফেওল (Henri Fayol) এর মতে –
“সংগঠন হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে প্রয়োজনীয় মানুষ, উপকরণ ও কাজকে পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয় নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য পূরণের জন্য।”
সংগঠন কী (সহজভাবে)
সহজভাবে বলা যায়,
সংগঠন হলো মানুষের যৌথ প্রচেষ্টায় নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পিতভাবে গঠিত একটি কাঠামো বা ব্যবস্থা।
যেমন— একটি বিদ্যালয়, হাসপাতাল, সরকারী দপ্তর, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, এমনকি একটি পরিবারও এক ধরনের সংগঠন।
সংগঠনের বৈশিষ্ট্য
১. উদ্দেশ্য নির্দিষ্টতা: প্রতিটি সংগঠনেরই একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে।
২. দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব বণ্টন: কে কী কাজ করবে, কার অধীনে কাজ করবে—তা নির্ধারিত থাকে।
৩. সমন্বয়: প্রত্যেকের কাজের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় থাকে।
৪. মানবসম্পদ ও উপকরণের ব্যবহার: সংগঠনে মানুষ ও উপকরণ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়।
৫. নিয়ম ও কাঠামো: সংগঠন নির্দিষ্ট নিয়ম, বিধি ও কাঠামো অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
সংগঠন হলো যেকোনো ব্যবস্থাপনার মূলভিত্তি। এটি ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান, সরকার, বা সামাজিক উদ্যোগ সফল হতে পারে না। মানুষ, সম্পদ, সময় ও পরিকল্পনাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার মাধ্যমে সংগঠনই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
Post a Comment